রাতে ঘাম হওয়ার কারণ ও করণীয়

রাতে ঘাম হওয়ার কারণ ও করণীয় নিয়ে চিন্তায় আছেন? অনেক সময় এটি সাধারণ ক্লান্তি হলেও কিছু ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। ঘরোয়া কিছু অভ্যাস পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য টিপস আপনার অস্বস্তি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করতে পারে।
রাতে-ঘাম-হওয়ার-কারণ-ও-করণীয়
ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম কেন হয়, কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা ঠিক নয় এবং কখন ডাক্তার দেখানো দরকার তা জানুন। রাতে বারবার ঘেমে ঘুম ভেঙে গেলে কারণ জানার আগে দেরি না করে পুরো আর্টিকেলটি পড়ে নিন।

পেজ সূচিপত্রঃ রাতে ঘাম হওয়ার কারণ ও করণীয়

রাতে ঘাম হওয়ার কারণ ও করণীয়

রাতে ঘাম হওয়ার কারণ ও করণীয় একটি অজানা বিষয়ইবস্তু। রাতে ঘাম হওয়াটা সত্যি বিরক্তিকর। ঘুম ভেঙে যায়, বিছানা ভিজে যায়, আর সকালে উঠে মনে হয় শরীরটা ক্লান্ত। আমি আপনাকে খুব সহজ ভাষায়, বলছি এর কারণ কী কী হতে পারে আর কী করলে স্বস্তি পাবেন। এগুলো সাধারণ অভিজ্ঞতা আর নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকে নেওয়া, কিন্তু যদি এটা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে বা সঙ্গে জ্বর, ওজন কমা, ক্লান্তি এসব থাকে, তাহলে একবার ডাক্তারের কাছে যাওয়াই ভালো। চলুন এর কারণ ও করণীয়তা সম্পর্কে জেনে নেই।

রাতে ঘামের কারণগুলোঃ

  • পরিবেশগত কারণঃ ঘরটা যদি গরম বা আর্দ্র হয়, কিংবা আপনি মোটা লেপ-কম্বল বা সিন্থেটিক কাপড়ের বিছানায় শোন, তাহলে শরীরের তাপ বের করার জন্য স্বাভাবিকভাবে ঘাম হয়। অনেক সময় দেখা যায় গরমকালে বা এসি ছাড়া ঘুমালে এটা বেশি হয়, কোনো রোগ ছাড়াই।
  • হরমোনের সমস্যাঃ মহিলাদের মেনোপজ বা পিরিয়ডের আগে-পরে হরমোনের ওঠানামার জন্য রাতে হঠাৎ ঘাম ঝরে। পুরুষদেরও থাইরয়েড গ্রন্থি বেশি সক্রিয় হলে (হাইপারথাইরয়েডিজম) বা টেস্টোস্টেরন কমলে এমন হয়। গর্ভাবস্থাতেও অনেকের এই সমস্যা দেখা যায়।
  • সংক্রমণজনিত কারণঃ টিবি, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া বা সাধারণ ফ্লু-জাতীয় ইনফেকশন থাকলে শরীর রাতে জ্বরের মতো প্রতিক্রিয়া দেখায় আর ঘাম বের হয়। এটা প্রায়ই অন্য লক্ষণের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যেমন কাশি বা দুর্বলতা।
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ অনেক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, স্টেরয়েড, ডায়াবেটিসের ওষুধ বা হরমোন থেরাপির ওষুধ খেলে রাতে ঘাম বেড়ে যায়। যদি নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর এটা শুরু হয়, তাহলে ডাক্তারকে জানানো উচিত।
  • গুরুতর অসুস্থতাঃ লিম্ফোমা বা অন্যান্য ক্যান্সারের একটা লক্ষণ হতে পারে রাতের ঘাম, বিশেষ করে যদি সঙ্গে রাতের জ্বর আর ওজন কম থাকে। এটা খুব কম ক্ষেত্রে হয়, কিন্তু উপেক্ষা করা উচিত নয়।
  • মানসিক চাপ ও লাইফস্টাইলঃ অ্যাঙ্জাইটি, স্ট্রেস বা প্যানিক অ্যাটাক থাকলে ঘুমের মধ্যে শরীরের অ্যাড্রেনালিন বেড়ে ঘাম হয়। এ ছাড়া রাতে অ্যালকোহল, ক্যাফেইন, মশলাদার খাবার খেলে বা ওজন বেশি থাকলে ঘাম বাড়ে। স্লিপ অ্যাপনিয়াও একটা বড় কারণ।
  • অন্যান্য কারণঃ ডায়াবেটিসে রক্তে সুগার কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসিমিয়া) রাতে ঘাম হতে পারে। কখনো কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ঘাম হয়, যাকে বলে ইডিওপ্যাথিক হাইপারহাইড্রোসিস।

এখন করণীয় কীঃ

  • প্রথমেই ডাক্তার দেখানঃ যদি ঘামটা নিয়মিত হয় বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকে, তাহলে জেনারেল ফিজিশিয়ান বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের কাছে যান। রক্ত পরীক্ষা বা অন্য টেস্ট করে আসল কারণ বের করা সবচেয়ে ভালো।
  • ঘর ঠান্ডা রাখুনঃ রাতে ফ্যান বা এসি চালিয়ে ঘরের তাপমাত্রা ১৮-২২ ডিগ্রির মধ্যে রাখুন। হালকা সুতির চাদর আর বালিশ ব্যবহার করো, মোটা কম্বল এড়িয়ে চলুন।
  • পোশাক ও বিছানা বদলানঃ সুতির পাজামা বা হালকা টি-শার্ট পরে ঘুমান। সিন্থেটিক কাপড় একদম না। বিছানার চাদরও সুতির রাখুন যাতে ঘাম শোষণ করে।
  • ট্রিগার এড়াওঃ রাতে অ্যালকোহল, চা-কফি, মশলাদার খাবার বা ভারী ডিনার একেবারে কমিয়ে দিন। ব্যায়াম সন্ধ্যার আগে শেষ করো, রাতে না।
  • স্ট্রেস কমানঃ ঘুমানোর আগে ১০ মিনিট শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন। যোগা বা হালকা হাঁটাহাঁটি দিনে করলে রাতের ঘাম অনেক কমে।
  • শরীরের যত্ন নিনঃ দিনে প্রচুর পানি খান, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। রাতে ঘুমানোর আগে হালকা গোসল করে নিলে শরীর ঠান্ডা থাকে।
  • প্রয়োজনে সাহায্য নিনঃ যদি কোনো ওষুধের কারণে হয়, ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে ডোজ বা ওষুধ বদলাতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট বা অন্য চিকিৎসাও কাজ করে।
এভাবে ছোট ছোট পরিবর্তন করলে অনেকেরই সমস্যা অনেক কমে যায়। তবে সবচেয়ে বড় কথা, নিজে নিজে অনেকদিন চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

সবার আগে দেখুন আপনার ঘর আর বিছানার পরিবেশ ঠিক আছে কিনা

সবার আগে দেখুন আপনার ঘর আর বিছানার পরিবেশ ঠিক আছে কিনা, কারণ অনেক সময় এটাই রাতের ঘামের সবচেয়ে সাধারণ আর সহজে ঠিক করা যায় এমন কারণ। ঘরটা যদি গরম বা আর্দ্র হয়, তাহলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই তাপ বের করতে ঘামতে থাকে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে ফ্যান বা এসি চালিয়ে ঘরের তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রির মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। জানালা একটু ফাঁক করে রাখলে বাতাস চলাচল ভালো হয়, কিন্তু যেন বাইরের গরম হাওয়া না ঢোকে। মোটা কম্বল বা লেপ একদম এড়িয়ে চলুন, তার বদলে হালকা সুতির চাদর আর বালিশ ব্যবহার করুন যাতে শরীরের তাপ সহজে বেরিয়ে যায়।
বিছানা আর পোশাকের দিকেও খেয়াল রাখুন, কারণ এগুলো ঘাম শোষণ করতে না পারলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। সিন্থেটিক কাপড়ের পাজামা বা টি-শার্ট পরে ঘুমানো একেবারে বন্ধ করুন, তার জায়গায় সুতির হালকা পোশাক বেছে নিন যাতে বাতাস চলতে পারে। বিছানার চাদরটাও সুতির রাখুন, যেন ঘাম শুষে নেয় আর ভিজে না লেগে থাকে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো করলে অনেকেরই রাতের ঘাম অনেক কমে যায়, আর ঘুমের আরামও ফিরে আসে। যদি এসব করার পরেও সমস্যা থেকে যায়, তাহলে অন্য কারণ খুঁজতে হবে।

হরমোনের ঝামেলায় রাতে ঘাম হলে কী করবেন?

হরমোনের ঝামেলায় রাতে ঘাম হওয়াটা অনেক পুরুষ ও মহিলার ক্ষেত্রে খুব পরিচিত একটা সমস্যা। রাতে ঘাম হওয়ার কারণ ও করণীয় বুঝতে প্রথমেই জানতে হবে এটা মেনোপজ, থাইরয়েডের অতিরিক্ত সক্রিয়তা, গর্ভাবস্থা নাকি হরমোনের অন্য কোনো ভারসাম্যহীনতার জন্য হচ্ছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ না করায় রাতের দিকে হঠাৎ করে প্রচুর ঘাম বের হয়, যা ঘুম ভেঙে দেয় এবং সারাদিন ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।

এমন হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে হরমোনের লেভেল পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলে উপকার মিলতে পারে, যেমন রাতে হালকা সুতির পোশাক পরা, ঘরের তাপমাত্রা ঠান্ডা রাখা, মশলাদার খাবার ও ক্যাফেইন কমিয়ে দেওয়া এবং স্ট্রেস কমানোর জন্য নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা মেডিটেশন করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনে হরমোন থেরাপি বা সঠিক ওষুধ নিলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংক্রমণ বা ইনফেকশন থেকে আসা রাতের ঘাম

সংক্রমণ বা ইনফেকশন থেকে আসা রাতের ঘাম অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো গুরুতর লড়াইয়ের সংকেত দেয়। টিবি বা যক্ষ্মা, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া কিংবা সাধারণ ভাইরাসজনিত ফ্লু-জাতীয় সংক্রমণ হলে শরীর রাতের দিকে জ্বরের মতো প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ঠান্ডা হওয়ার সময় প্রচুর ঘাম বের হয়, যা ঘুম ভেঙে দেয়। সাধারণত এর সঙ্গে অবিরাম কাশি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, রাতের জ্বর, শীত করা বা ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা যায়। তাই শুধু ঘামকে আলাদা করে না দেখে পুরো শারীরিক অবস্থাটা খেয়াল রাখা খুব জরুরি।
রাতে-ঘাম-হওয়ার-কারণ-ও-করণীয়
এমন ঘাম হলে একদম অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। জেনারেল ফিজিশিয়ান বা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে রক্ত পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে, স্পুটাম টেস্ট বা প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা করিয়ে আসল কারণ বের করা যায়। সঠিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য চিকিৎসা শুরু করলে সংক্রমণ কমে গেলে রাতের ঘামও ধীরে ধীরে থেমে যায়। তাই যদি ঘামের সঙ্গে অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

ওষুধ খেয়ে কি রাতে বেশি ঘামছেন? জেনে নিন কারণ

ওষুধ খেয়ে কি রাতে বেশি ঘামছেন? জেনে নিন কারণ অনেকের ক্ষেত্রে এটা খুব সাধারণ একটা ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। রাতে ঘাম হওয়ার কারণ ও করণীয় বোঝার জন্য জেনে রাখুন যে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, স্টেরয়েড, ডায়াবেটিসের ওষুধ, হরমোন থেরাপি বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কিছু ওষুধ এই ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর এমন লক্ষণ দেখা দিলে এটাকে সন্দেহ করা উচিত। যদি আপনি মনে করেন যে আপনার খাওয়া ওষুধের কারণে এই ঘাম হচ্ছে, তাহলে কখনো নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করবেন না। 
সরাসরি আপনার ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং বিস্তারিত বলুন। তিনি প্রয়োজনে ডোজ কমিয়ে দিতে পারেন বা অন্য একটা নিরাপদ বিকল্প ওষুধ দিতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘর ঠান্ডা রাখা, হালকা সুতির পোশাক পরা এবং রাতের খাবার হালকা রাখলে এই অস্বস্তি অনেকটা কমানো সম্ভব হয়।

মানসিক চাপ আর উদ্বেগ কীভাবে ঘাম বাড়ায়

মানসিক চাপ আর উদ্বেগ আজকালকার ব্যস্ত জীবনে অনেকেরই নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। এই চাপ যখন অতিরিক্ত মাত্রায় পৌঁছায়, তখন তা শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতের ঘুমেও শরীরকে প্রভাবিত করে। রাতে ঘাম হওয়ার কারণ ও করণীয় বুঝতে গেলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগের ভূমিকাটা একেবারে উপেক্ষা করা যায় না। যখন মনের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস কাজ করে, তখন শরীরের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে অ্যাড্রেনালিন ও অন্যান্য স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়, যা হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় এবং ঘাম গ্রন্থিগুলোকে অত্যধিক সক্রিয় করে তোলে। 

ঘুমের মধ্যেও যদি অবচেতন মনে চিন্তা চলতে থাকে, তাহলে এই প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকে এবং হঠাৎ করে প্রচুর ঘাম বের হয়। এই ধরনের ঘাম কমাতে চাইলে ঘুমানোর আগে মানসিক শান্তি আনার চেষ্টা করুন। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, মেডিটেশন বা প্রার্থনা করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া দিনের বেলায় নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা, ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল কমিয়ে দেওয়া এবং ঘুমের আগে মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চললে ধীরে ধীরে এই সমস্যা অনেকটা কমে আসে।

ডায়াবেটিস বা লো ব্লাড সুগারের সাথে যোগাযোগ

ডায়াবেটিস বা লো ব্লাড সুগারের সাথে রাতের ঘামের একটা গভীর যোগাযোগ রয়েছে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, বিশেষ করে যারা ইনসুলিন বা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ খান, তাদের রাতের বেলায় রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ করে কমে যেতে পারে। এই অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসিমিয়া বলা হয়। শরীর তখন এই সুগার কমে যাওয়ার সংকেত দিতে অ্যাড্রেনালিন হরমোন বের করে, যার ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং প্রচুর ঘাম হয়। অনেক সময় রোগী ঘুমের মধ্যেই এই ঘাম অনুভব করেন এবং ঘুম ভেঙে যায়। এ ছাড়া দিনের বেলায় সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে রাতে এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
রাতে-ঘাম-হওয়ার-কারণ-ও-করণীয়
যদি আপনার ডায়াবেটিস থাকে এবং নিয়মিত রাতে ঘাম হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই আপনার ব্লাড সুগার লেভেল মনিটর করুন। রাতে খাওয়াদাওয়ার সময়, ওষুধের ডোজ এবং ঘুমানোর আগে স্ন্যাকস নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি। সঠিক ডায়েট, নিয়মিত ব্লাড সুগার চেক এবং প্রয়োজনে ওষুধের মাত্রা অ্যাডজাস্ট করলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমে আসতে পারে। কখনো কখনো এটা ডায়াবেটিসের একটা গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেতও হতে পারে, তাই দেরি না করে চেকআপ করিয়ে নেওয়াই ভালো।

গুরুতর কারণ যেমন ক্যান্সার-লক্ষণগুলো মনে রাখুন

গুরুতর কারণ যেমন ক্যান্সার-লক্ষণগুলো মনে রাখুন। রাতের অতিরিক্ত ঘাম বেশিরভাগ সময় নিরীহ কারণে হলেও, কখনো কখনো এটা শরীরের ভেতরে চলতে থাকা গুরুতর কোনো সমস্যার প্রথম সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে লিম্ফোমা, লিউকেমিয়া বা অন্যান্য ক্যান্সারের ক্ষেত্রে রাতে প্রচণ্ড ঘাম হওয়াটা একটা পরিচিত লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। এ ধরনের ঘাম সাধারণত খুব তীব্র হয় এবং বিছানা ভিজিয়ে দেয়। সঙ্গে অজানা কারণে ওজন কমে যাওয়া, রাতের জ্বর বা দীর্ঘদিনের ক্লান্তি দেখা দিলে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। 
রাতে ঘাম হওয়ার কারণ ও করণীয় বুঝতে গেলে এই লক্ষণগুলোকে একসাথে গুরুত্ব সহকারে দেখতে হয়। তবে এসব লক্ষণ দেখলেই অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো অন্য সাধারণ কারণেও হতে পারে। তবু নিরাপদ থাকার জন্য যদি ঘাম নিয়মিত হয় এবং অন্য লক্ষণগুলো থাকে, তাহলে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বিস্তারিত চেকআপ করিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। সঠিক সময়ে পরীক্ষা করালে আসল কারণ বের করা সহজ হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়।

ঘরোয়া টিপস দিয়ে রাতের ঘাম কমানোর সহজ উপায়

ঘরোয়া টিপস দিয়ে রাতের ঘাম কমানোর সহজ উপায় অনেকের জীবনেই বড় পরিবর্তন আনতে পারে যদি নিয়মিত মেনে চলা যায়। প্রথমেই শোবার ঘরের পরিবেশটা যতটা সম্ভব ঠান্ডা আর আরামদায়ক করে নিন। রাতে ফ্যান বা এসি চালিয়ে ঘরের তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রির মধ্যে রাখুন, জানালা একটু ফাঁক করে রাখলে বাতাস চলাচল ভালো হয়। মোটা লেপ-কম্বলের বদলে হালকা সুতির চাদর আর বালিশ ব্যবহার করুন যাতে শরীরের তাপ সহজে বেরিয়ে যায়। ঘুমানোর সময় সিন্থেটিক কাপড়ের পাজামা বা টি-শার্ট একদম এড়িয়ে চলুন, তার বদলে ঢিলেঢালা সুতির নাইটওয়্যার পরুন। 

ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা গোসল করে নিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং ঘামের পরিমাণ অনেকটাই কমে। এছাড়া দৈনন্দিন অভ্যাসে কয়েকটা ছোট পরিবর্তন আনলেও রাতের ঘাম অনেক কমে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে চা-কফি, অ্যালকোহল বা মশলাদার ভারী খাবার একেবারে কমিয়ে দিন, রাতের খাবার হালকা আর সহজপাচ্য রাখুন। দিনের বেলায় নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন কিন্তু ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে শেষ করুন। 

ঘুমের আগে ১০-১৫ মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা মেডিটেশন করলে মানসিক চাপ কমে এবং ঘাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দিনে প্রচুর পানি খাওয়া এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও এই সমস্যা কমাতে বেশ কাজে দেয়। এই সাধারণ ঘরোয়া টিপসগুলো যদি ধৈর্য ধরে কয়েক সপ্তাহ মেনে চলেন, তাহলে অনেকেই ওষুধ ছাড়াই বেশ স্বস্তি পান।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

রাতে ঘাম হওয়া অনেকের কাছেই একটা বিরক্তিকর এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো সমস্যা, কিন্তু ভালো খবর হলো এটাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্ভব। ছোট ছোট লাইফস্টাইল পরিবর্তন, ঘরের পরিবেশ ঠিক রাখা এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে আসল কারণ খুঁজে বের করলে আপনি অনেকটাই স্বস্তি পাবেন। শরীরকে কখনো অবহেলা করবেন না, কারণ সামান্য লক্ষণও কখনো কখনো গুরুতর কিছুর ইঙ্গিত দিতে পারে। সুস্থ থাকুন, আরামদায়ক ঘুম হোক আপনার প্রতি রাতে। এমন আরো টিপস পেতে অর্ডিনারি আইটির পেজকে সাবস্ক্রাইব করে রাখতে ভূলবেন না। ধন্যবাদ। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url